টিকটকারে ফাঁসলেন ফাঁসুড়ে শাহজাহান!
২৩ বছরের এক টিকটকারকে বিয়ে করে ফেঁসে গেছেন ৪৪ বছর জেল খেটে ৯ মাস আগে কারামুক্ত হওয়া জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। এখন তিনি ফের আসামী এবং নিঃস্ব বলে দাবি করেছেন ৩ দশকে ২৬ অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা ৬৮ বছর বয়সী শাহাজাহান। বলেছেন, প্রতারণার শিকার হয়ে হারিয়েছেন সব। তাই কাজ ও থাকার জায়গা চেয়ে সরকারের প্রতি আবেদন তার।
সোমবার (১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ মন্তব্য করেন তিনি। স্ত্রী ও শাশুড়ির কাছে জল্লাদ শাহজাহানের প্রতারণার বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে টাইমস পিআর।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহজাহান বলেন, একদিন কেরানীগঞ্জের কদমতলি থেকে যাওয়ার পথে সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাই। ব্যাগে থাকা কাগজপত্র থেকে পাওয়া ফোন নম্বরে কল করে আমি ব্যাগটি নিয়ে যেতে বলি। ব্যাগের মালিক সাথী আক্তার ফাতেমা, ওরা যে এত বড়ো একটা প্রতারক চক্র তা মাই জানতাম না। ওদের চক্রে কয়েকজন নারী ও পুরুষ আছে। তারাই বিয়ের সময় সাক্ষী হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে করা মামলায়ও সাক্ষী হয়েছে।
শাহজাহান জানান, পরিচয়ের দেড় মাস পর ২১ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা দেনমহরে তার বিয়ে হয়। তবে মা-মেয়ে বিয়ের আগেই নানা কৌশলে আমার থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়, আর বিয়ের দিন একশত টাকার তিনটি ষ্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করে আমার গোছানো আরও দশ লাখ টাকা নেন। বিয়ের প্রায় দুই মাসের মাথায় আমার স্ত্রী নগদ সাত লাখ টাকা ও স্বর্ণ অলংকার নিয়ে পালিয়ে যান। আমি এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে তারা নেয়নি, পরে জানতে পারি ১৫ ফেব্রুয়ারি সাথী আক্তার ফাতেমা আমার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামালা করেছে।
স্ত্রীর কাছে প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে শাহজাহান বলেন, গত বছর ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করেছি। বিয়ের কাবিন পাঁচ লাখ টাকা হলেও আমার কাছে থাকা ১০ লাখ টাকা স্টাম্পে লিখে নিয়ে আমার স্ত্রী সাথী আক্তারবিয়ের ৫৩ দিনের মাথায় পালিয়ে গেছেন। সে সময় ঘরে থাকা আরও সাত লাখ টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে আমার নামে যৌতুকের মামলা দিয়েছে। আমি থানায় মামলা দিতে গেলে সেই মামলা নেয়নি। বললো বউয়ের নামে মামলা হয় না। পরে আইনজীবীর সহযোগিতায় গত রোববার (৩১ মার্চ) আদালতে স্ত্রী-শাশুড়িসহ ছয়জনের নামে প্রতারণার মামলা করেছি। আদালত মামলাটি তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে।

সম্মেলনে টাইমস পিআর এর প্রধান নির্বাহী মিজান সোহেল ও শাহজাহানের আইনজীবী ওসমান গণি উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযুক্ত সাথী আক্তার ফাতেমা’র টিকটক আইডি থেকে এরই মধ্যে তার নাম সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন সেখানে শুধু আইডি নম্বর দেখা যায়। ওই আইডি থেকে এরইমধ্যে বেশি কিছু ভিডিও মুছে ফেলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রতারণার অভিযোগে স্ত্রী সাথী আক্তার ফাতেমা ও শাশুড়ি শাহিনুর বেগমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ৪৪ বছর জেল খেটে ৯ মাস আগে কারামুক্ত হওয়া জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। রোববার (৩১ মার্চ) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. রকিবুল হাসানের আদালতে এ মামলা করেন তিনি। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগেরে বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ২৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য আসামিরা হলেন-শাহজাহানের শ্বশুর বাড়ির স্বজন দীন ইসলাম, আজিদা বেগম, রাসেল ও বাবলু।







